অবাক খবর

আজকাল আমাদের মাঝে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত। ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটারসহ নানান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডুবে থাকে অনেকেই।

ফেইসবুক ব্যবহার করে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষও ফেইসবুক ব্যবহার করে। মানুষের ভেতর কোনো একটা তথ্য ছড়িয়ে দেবার জন্য এই মাধ্যমগুলোর কোনো তুলনা নেই।

আজকাল মানুষ একে অন্যের সাথে সম্পর্ক বা যোগাযোগ রাখে এগুলোর সাহায্যে। শিশুরা তথ্য প্রযুক্তিকে খুব সহজে গ্রহণ করতে পারে বলে এগুলো শিশুদের মাঝে খুবই জনপ্রিয়।

সাধারণত একটা নির্দিষ্ট বয়স না হওয়া পর্যন্ত এই মাধ্যমে যোগ দেওয়া যায় না কিন্তু তারপরেও অনেক কম বয়সী নিজের সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যোগ দেয়।

সিলেটের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র নাদিম হোসেন বলে, “আমি ফেইসবুক ব্যাবহার করি না। কিন্তু আমার প্রায় সব বন্ধুরাই এটা ব্যবহার করে এবং দিনের বেশির ভাগ সময়ই তারা মোবাইলের  দিকে তাকিয়ে তাকে। তারা মাঠে খেলাধুলাও করতে আসে না। ঘরে বসে বসেই মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের গেমস খেলে।”

কথা হয় সিলাম পিএলস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া আক্তারের সাথে। ফেইসবুকে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার কারণে পড়ার ক্ষতি হয় বলে মনে করে তানিয়া।

সে বলে, “একটু সময় পেলেই অনলাইনে ঢুকি। এটা যেন আমার নিত্য দিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমি ও আমার বন্ধুরা এ ধরনের সমস্যায় অনেক দিন ধরেই ভুগছি। পড়ালেখার সময়েও একটু ফেইসবুকে লগ ইন করতে ইচ্ছে করে।”

শেখ রাসেল হলি চাইল্ড কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈকত হোসেন মনে করেন শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, “১৮ বছর না হলে ফেইসবুক আইডি খোলা নিষিদ্ধ করা উচিত। তাতে শিশুরা ঠিকমত পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারবে। অনেক অভিভাবকরা শিশুদের মোবাইল কিনে দেন। যা একেবারেই উচিত নয়।

অভিভাবক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “এখন শিশুরা খাওয়া ও পড়ার টেবিল থেকে শুরু করে বিছানা পর্যন্ত ডুবে থাকে স্মার্টফোনে। খেলাধুলা করতে বাসার বাইরে বের হওয়ার আগ্রহও নেই তাদের। এছাড়াও তারা পড়ার চেয়ে ফেইসবুক, ইউটিউব ও গেমস খেলায় বেশি সময় ব্যয় করছে।”