স্বাস্থ্যকথা

সুপারবাগ আসছে !

সুপারবাগ হচ্ছে সেইসব রোগজীবাণু যাদেরকে কোন এন্টিবায়োটিক দিয়ে প্রতিরোধ করা যায় না বা মেরে ফেলা যায় না। মনে রাখতে হবে, কেউ সুপারবাগে আক্রান্ত হলে তাকে সুস্থ্য করে তোলার সব রাস্তাই বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যুই তার জন্য অবধারিত হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশে ইতিমধ্যে হাসপাতাল-ক্লিনিকে বেশ কিছু রোগির শরীরে সুপারবাগের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আইসিইউ তে মারা যাওয়া রোগিদের শরীরে এটি বেশি পাওয়া গেছে।

সুপারবাগ সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ হলো অতি মাত্রায় এবং অসাবধানে এন্টিবায়োটিক গ্রহণ। শুধু ঔষধ হিসাবেই নয়, নানা রকম খাদ্য মাধ্যমেও আমরা অজান্তেই এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করে ফেলছি। যেমন ধরা যাক, পল্ট্রি মুরগী ও ডিম। পল্ট্রি মুরগীকে সুস্থ্য রাখার জন্য অসাধু ব্যবসায়িরা যত খুশি তত মাত্রায় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করছে। এর কোন সঠিক বিধি-বিধান আমরা কেউই মানছি না। পল্ট্রি মুরগির শরীরে প্রয়োগকৃত অতি মাত্রার এন্টিবায়োটিক মানুষের শরীরেও অজ্ঞাতেই ঢুকে পড়ছে, কারণ আমরা সবাই পল্ট্রি মুরগির মাংশ ও ডিম প্রতিদিন গ্রহণ করছি।

অন্যদিকে আমাদের ডাক্তাররাও প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিকের প্রয়োগ করছেন অবাধে। আমরা নিজেরাও অনেক সময় ইচ্ছে মতো এন্টিবায়োটিক কিনে খাচ্ছি যখন তখন। এন্টিবায়োটিক ও ব্যথার ঔষধ খাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ারও প্রয়োজন মনে করছি না। ফলে আমরা এক কঠিন পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যা আমরা আজ কল্পনাও করতে পারছি না।

আমাদের গ্রাম বা রুরাল পর্যায়ের এই চিত্র আরো খারাপ। এখানে নামমাত্র প্রশিক্ষণ পাওয়া পল্লী-চিকিৎসকেরা এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো স্বেচ্ছাচারী। তারা যেভাবে এবং যে মাত্রায় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করছে তা ভয়াবহ – তারা অনেক সময়ই সঠিক এন্টিবায়োটিক এবং তার মাত্রা অবগত না হয়েই এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে থাকেন। আবার তারা যেসব অখ্যাত কোম্পানীর ঔষধ ব্যবহার করে তাতে ঔষধের মান ও মাত্রা কোনটাই ঠিক থাকে না। অখ্যাত কোম্পানীগুলো বেশি মাত্রায় কমিশন দেয় বলেই তারা এগুলো প্রেসক্রাইব করে থাকে। মাত্রার চেয়ে কম বা বেশি এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ সুপারবাগ সৃষ্টির আরো একটি অন্যতম কারণ।

তাহলে উপায় কি?
১। আমাদেরকেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে।
২। একান্ত প্রয়োজন হলে ব্লাড কালচার করিয়ে সঠিক এন্টিবায়োটিক এর নাম এবং মাত্রা ও পরিমাণ নিশ্চিত হয়ে প্রয়োগ করুন।
৩। এন্টিবায়োটিক এর উপর নির্ভর করে উৎপাদিত মাছ মাংশ বা অন্য কিছু আপনার প্রতিদিনের খাবার তালিকা থেকে বাদ দিন।
৩। আর শহর ও গ্রামের সকল ডাক্তারদের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ, এন্টিবায়োটিক “যেমন খুশি তেমন” স্টাইলে ব্যবহার করবেন না। ঔষধ কোম্পানির লোভনীয় অফারগুলোকে আমল না দিয়ে জনস্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে গোটা জাতিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবেন না।

সুপারবাগ প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন, না হলে সুপারবাগ গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিবে।